DCJ

এশিয়ার সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম কারাগার ১০ এপ্রিল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কেরানীগঞ্জের নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধন আগামী রোববার। কারাগারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার রাজধানীর অদূরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুরে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এ কারাগারটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ’। মোট ১৯৪ দশমিক ৪১ একর জমির ওপর তিনটি কারাগার নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে পুরুষ কারাগার দুটি আর মহিলা কারাগার একটি। মহিলা কারাগারটিতে ২০০ বন্দী রাখা যাবে। প্রতিটি পুরুষ কারাগার ৩১ একর জমিতে তৈরি করা হচ্ছে। আর মহিলা কারাগারটি তৈরি হবে ১১ একর জমির ওপর। নতুন এ কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কারাগারের চারপাশে ১৮ ফুট উচ্চতার বিশেষ প্যারামিটার দৈয়াল তৈরি করা হয়েছে। এর উপরে রেক্টিফাইড ক্যাবল দিয়ে কমপক্ষে ৬ ফুট উঁচু করে ঘিরে রাখা হচ্ছে। শুক্রবার ঢাকার কারা অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে কারা-মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন এ কথা জানান। তিনি বলেন, নাজিম উদ্দিন রোড থেকে এক দিনেই সব বন্দিকে কেরানীগঞ্জের নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। কারণ যথেষ্ট কারারক্ষী নেই। কারা-মহাপরিদর্শক বলেন, কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে আট হাজারের মতো বন্দি আছে। এর মধ্যে নারী বন্দিদের কাশিমপুর কারাগারে আর বাকিদের কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে পাঠানো হবে। এ কারাগারে প্রায় চার হাজার ৫৯০ জন বন্দী থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে নবনির্মিত এ কারাগারটিতে শুধু পুরুষ বন্দীদের রাখা হবে। কারা এলাকায় পুরুষ কারাগারটির পাশে নতুন একটি মহিলা কারাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। সেটির নির্মাণ শেষ হলে নারী বন্দীরাও থাকতে পারবেন। তিনি বলেন, একদিনে এতো বন্দি স্থানান্তর করতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ প্রিজন ভ্যান দরকার। সারাদেশের ৬৮ কারাগারের সব প্রিজনভ্যান আনলেও সেই সংখ্যা হবে না। তারপরও আমরা একদিনেই বন্দিদের স্থানান্তর করব এবং সেটি অবশ্যই ছুটির দিনে হবে। আমরা এপ্রিল মাসের মধ্যে কেরানীগঞ্জে যেতে চাই। যতো তাড়াতাড়ি হবে ততোই ভাল। পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দীন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নতুন কারাগারটির দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। ১৭৮৮ সালে স্থাপিত পুরান ঢাকার এ কারাগারটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম এক সাক্ষী। নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের জমিতে ভবিষ্যতে পার্ক, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ব্যয়ামাগার ও কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ করা হবে এবং সেজন্য প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে বলে জানান মহাপরিদর্শক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *