dudok1456770202

প্লট ফেরতে ফের দায়মুক্ত রাজউকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান

প্লট ফেরত দিয়ে আবারো দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা।

এর আগে ২০১৪ সালের নভেম্বরে নূরুল হুদার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয় থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন তিনি। এবার তার স্ত্রী ওয়াহিদা হুদার নামে অবৈধভাবে বরাদ্দ নিলেও প্লট ফেরত দেওয়ার কৌশলে আবারো দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন হুদা দম্পতি।

দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত চিঠির সূত্রে বিষয়টি দুদকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদার বিরদ্ধে বিধি বহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়া অভিযোগ নথিভুক্তির (অব্যাহতি) মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যার স্মারক নং-দুদক/ বি: অনু: ও তদন্ত-২/৩৫-২০১৪।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, পূর্বাঞ্চল নতুন শহর আবাসিক প্লট বরাদ্দ পদ্ধতি ২০০৯ ব্যত্যয় ঘটিয়ে হলফ নামা গ্রহণ এবং প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা রাজউক থেকে প্লট বরাদ্দ লাভ করার পরও স্ত্রীর নামে আদিবাসীর কোটায় প্লট বরাদ্দ নেন। আদিবাসী হিসেবে কারা বিবেচিত হবেন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট না করে মিসেস ওয়াহিদাকে পূর্বাচল এলাকার ৫ নম্বর সেক্টরে ৩০৯ রাস্তায় প্লট-৪৯ বরাদ্দ দিয়ে প্লট বরাদ্দ কমিটির বিধি সম্মত কাজ করে নাই।

তারপরও যেহেতু মিসেস ওয়াহিদা হুদা ২০১৫ সালের ২৬ আগস্টে তার নামে পূর্বাচলের ওই প্লটটি বিধিসম্মত হয়েছে কিনা তা পর্যালোচনা করার জন্য সেচ্ছায় আবেদন করেছিলেন এবং ওই বছরের ২৫ নভেম্বর প্লটটি সমর্পণ করে জমাকৃত টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য আবেদন করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজউক কর্তৃক প্লট বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে (স্মারক নং- রাজউক/এস্টেট-৩/পূর্বাচল/৭৩৬৩)। তাই অনুসন্ধান কর্মকর্তার সুপারিশক্রমে সকল বিষয় সদয় বিবেচনা করে প্রাক্তন রাজউক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি নথিভুক্তি (অব্যাহতি) সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

এর আগে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি কমিশনের অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদক উপপরিচালক মো. জুলফিকার আলী।

রাজউকে জমা দেওয়া মিসেস ওয়াহিদা হুদা আবেদনপত্রের বিষয়ে রাজউক সূত্রে জানা যায়, আবেদনপত্রে মিসেস হুদা বলেন, ‘রাজউকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে মূল অধিবাসী হিসেবে ৫ কাঠা আয়তনের (সেক্টর-৫, রাস্তা নং-৩০৯, প্লট-৪৯) একটি প্লট বরাদ্দ পাই। রাজউকের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসারে পূর্বাচল প্রকল্পের মূল অধিবাসী হিসেবে ঘর-বাড়িসহ জমিতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা (স্বামী-স্ত্রী উভয়েই) প্লট বরাদ্দ পাওয়ার কথা। আমিও অনুরূপভাবে জমি ও বাড়ির বিনিময়ে মূল অধিবাসী হিসেবে প্লটের বরাদ্দ পেয়েছি। আমার স্বামী (নূরুল হুদা) মূল অধিবাসী হিসেবে রাজউক থেকে কোনো প্লট বরাদ্দ পাননি। তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও রাজউক চেয়ারম্যান হিসেবে ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে রাজউকের কোটায় ১০ কাঠা আয়তনের প্লট বরাদ্দ পান। অর্থাৎ আমার স্বামীর নামে প্লট বরাদ্দের পরে আমার নামে মূল অধিবাসী কোটায় প্লটটি বরাদ্দ পাই।’

‘এ ক্ষেত্রে রাজউকের প্রচলিত বিধি বিধানের কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলে আমি মনে করি। তারপরও বরাদ্দকৃত প্লটের ক্ষেত্রে রাজউকের প্রচলিত বিধি বিধানের কোনোরূপ ব্যত্যয় হয়ে থাকলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে আমাকে পুরো বিষয়টি অবহিত করলে আমি রাজউক বরাবর প্লটটি সমর্পণ করতে প্রস্তুত আছি।’

এরপর ২৫ নভেম্বর পুনরায় অপর এক আবেদনপত্রে প্লটটি সমর্পণ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান মিসেস ওয়াহিদা হুদা। যেখানে তিনি বলেন, ‘অধিকতর সচ্ছতার জন্য ও আমার স্বামীকে যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতির সন্মুখীন হতে না হয়, সেজন্য প্লটটি রাজউক বরাবর সমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজউক প্লট বরাদ্দ বাতিল করে।

রাজধানীতে নিজের প্লট থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে একাধিক প্লট নেওয়ার অভিযোগে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

নূরুল হুদার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্র জানায়, নূরুল হুদা রাজউকের চেয়ারম্যান থাকাকালে রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৯ নম্বর সেক্টরের ১০৩ নম্বর রোডে ১০ কাঠা আয়তনের একটি প্লট (প্লট নং-১৯) বরাদ্দ নেন। এ সময় স্ত্রী ওয়াহিদা হুদার নামে একই প্রকল্পের সেক্টর-৫, রোড-৩০৯, প্লট নং-৪৯ নম্বরে ৫ কাঠার আরেকটি প্লট বরাদ্দ নেন।

অনেক গ্রাহক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ কোটায় এ প্রকল্পে এখনো প্লট পাননি। কিন্তু নূরুল হুদা তার স্ত্রীকে গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার ‘মূল অধিবাসী’ ও ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ দেখিয়ে ‘ক্ষতিগ্রস্ত কোটায়’ প্লটের বরাদ্দ নেন। অথচ রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায়ও নূরুল হুদা দম্পতির প্লট রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, স্বামীর নামে সরকারি প্লট থাকার পর আর স্ত্রীর নামে প্লট নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে নূরুল হুদা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে প্রভাব বিস্তার করে এ কাজটি করেছেন।

২০০৯ সালের ৩০ মার্চ অতিরিক্ত সচিবের পদমর্যাদায় দুই বছরের জন্য রাজউকের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান মো. নূরুল হুদা। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর কয়েক দফা তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল রাজউক চেয়ারম্যান হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *