12

সব দলের মতামত বিবেচনা করে ইসি পুনর্গঠন : রাষ্ট্রপতি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপ শেষ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।সংলাপের শেষ দিন বুধবার বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল ও জাকের পার্টির সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে তার আলোচনা শেষ হয়। সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর যে মতামত ও প্রস্তাব এসেছে, তা বিবেচনা করে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। নতুন ইসি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের শেষ দিনে এই আশাবাদ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপ্রধান, তবে কী প্রক্রিয়ায় নতুন ইসি গঠন হবে, তা জানাননি তিনি। দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেন ইতিমধ্যে বিভিন্ন দল সার্চ কমিটি এবং নির্বাচন কমিশন গঠনে সুচিন্তিত প্রস্তাব ও মতামত পেশ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব প্রস্তাব ও মতামত বিবেচনা করে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে। তিনি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সব রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ শেষ করেছেন। এখন তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া প্রস্তাব ও সুপারিশ পর্যালোচনা করবেন। এরপরে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে উদ্যোগ নেবেন। বুধবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রথম আলোচনায় যোগ দেয় বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মান্নান দলটির নয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

014

তাঁরা নির্বাচন কমিশন গঠনে ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেন। তাঁরা বলেন, নির্বাচন কমিশনের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠন এবং কমিশন সচিবালয়কে আর্থিক স্বাধীনতা প্রদানের প্রস্তাব করেন। এরপরে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএলের সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের এবং জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সলের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল পৃথকভাবে রাষ্ট্রপতির আলোচনায় অংশ নেয়। নির্বাচন কমিশন গঠনসংক্রান্ত আলোচনায় বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল সভাপতি রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন জরুরি। তাঁরা নির্বাচন কমিশন গঠনে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেন। তাঁরা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও বাস্তবায়নে দৃঢ় মনোবৃত্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন। তাঁরা একজন নারী কমিশনার নিয়োগেরও প্রস্তাব করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির এ উদ্যোগ সফল হবে এবং দেশে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে। নির্বাচন কমিশন গঠনসংক্রান্ত আলোচনায় বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানো এবং এ মহতী উদ্যোগের জন্য জাকের পার্টির চেয়ারম্যান রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান। এর ফলে সংবিধান অনুযায়ী একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে। তাঁরা নির্বাচন কমিশন গঠনে ৮ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। তাঁরা নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *