013

২০২১ সালে রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন ছাড়াবে

চলমান রপ্তানি বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালে রপ্তানি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল তখন দেশের রপ্তানি ছিল ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার সময় ছিল ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবারে দায়িত্ব গ্রহণের সময় রপ্তানি আয় ছিল ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, গত অর্থ বছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বুধবার মন্ত্রী রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চারদিনব্যাপী বাংলাদেশ গার্মেন্টস্ এক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সেপোর্টাস এসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) আয়োজিত গার্মেন্টেক-২০১৭-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক। এ খাত থেকে মোট রপ্তানির প্রায় ৮২ ভাগ আসে। অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক রপ্তানি এ অবস্থানে এসেছে। তিনি বলেন, সামনে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিং-এর প্রায় ৩০টি পণ্যের প্রয়োজন হয়। তৈরি পোশাক সেক্টরের জন্য এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একসময় এগুলো আমদানি করতে হতো। দেশের শিল্পের চাহিদা মিটিয়ে এগুলো বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। বর্তমানে এসেক্টরে রপ্তানির পরিমান প্রায় ৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২১ সালে রপ্তানির পরিমান দাঁড়াবে ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২০০৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কোটা প্রথা বাতিল করা হয়। সে সময় অনেকেই মনে করেছিলেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আর এগুতে পারবে না। এ শিল্পে শিশু শ্রম বন্ধের চ্যালেঞ্জ এসেছিল। সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা পায় না, ১৬ শতাংশ শুল্ক দিয়ে রপ্তানি করে। এখন একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর সেখানে রপ্তানি হয়েছে ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক। অষ্টমবারের মতো আয়োজিত এ মেলায় ২৪টি দেশের ৪০০টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০০ স্টল রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধা ৭টা পর্যন্ত এ মেলা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিজিএপিএমইএ-এর প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল কাদের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, এফবিসিসিআই-এর প্রথম সহ-সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমই-এর প্রেসিডেন্ট মো. সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *