003

আসবে রোবট ‘ব্যক্তি মর্যাদায়’

ধরুণ আজ অফিসে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। এমন যদি কেউ থাকতো যে আপনার বদলে অফিসে গিয়ে আপনার প্রতিনিধিত্ব করবে তাহলে কিন্তু মন্দ হতো না। ভাবছেন এমন মানুষ কোথায় পাওয়া যাবে বা এমন কখনো হয়ছে নাকি! যদি তাই ভেবে থাকেন তাহলে একটু আশার কথা বলি। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে এমনই একটি রোবট তৈরি হয়েছে যে কিনা দেখতে অবিকল মানুষের মতো। আর পৃথিবীর সবচেয়ে নিখুঁত এই রোবটটির দেখা পাওয়া গেল সিঙ্গাপুরের নানইয়াং তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। রোবটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানীর অসাধারণ সৃষ্টি। রোবটটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতেই রিসেপসনিষ্টের কাজে নিয়োজিত আছে। ধারণা করা হচ্ছে এরকম রোবট তৈরি করার ফলে যাদের কোন বন্ধুবান্ধব নেই বা যারা প্রবীন আছেন তাদের সঙ্গ দেয়ার জন্য এই ধরণের রোবট কাজে আসবে। রোবটি চাইলে আপনি আপনার নিজের মতো করে তৈরি করে নিতে পারবেন। নানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি রোবটটির নাম নাদিন। নরম চামড়া দিয়ে আবৃত রোবটির তামাটে চুলের রং সব মিলিয়ে একে দেখতে কোন মানুষের চাইতে কম মনে হবে না। শুধুমাত্র দেখতেই মানুষের মতো নয় এর আচার আচরণ একদম কোন মানুষের চেয়ে কম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা প্রতিটি মানুষের সঙ্গে আর দশটি মানুষের মতোই ভাবের আদান প্রদান করছে সে। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা অতিথিদের সঙ্গে করমর্দন থেকে শুরু করে নানারকম আলাপও করে থাকে নাদিন। এর একটি বাড়তি সুবিধা হচ্ছে কোন তথ্য ছাড়াই সে অবলীলায় মনে রাখতে পারে পূর্বের কোন অতিথির চেহারা। অন্যান্য রোবটের চেয়ে নাদিনের নিজস্ব ব্যাক্তিত্ব আছে। আর দশজনের মতো সেও তার ভাবের প্রকাশ করতে পারে। বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সে ঠিক করে কখন সে দুঃখী আবার কখন সে আনন্দিত হবে। নানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধক্ষ্য নাদিয়া থালমানের মস্তিস্কের উপর ভিত্তি করে রোবটটির মস্তিস্ক গঠন করা হয়েছে। আর এই মস্তিস্ক তৈরিতে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে তার সঙ্গে অ্যাপলের সিরি অথবা মাইক্রোসফ্টের করটানার সাদৃশ্য রযেছে। অধক্ষ্য নাদিয়া থালমান আবার ইনস্টিটিউট অব মিডিয়া ইনোভেশনের প্রধান নির্বাহী পরিচালক। ভবিষ্যতে নাদিনের মতো আরো রোবট তৈরি করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি। ‘এগুলো ভবিষ্যতে আমাদের বাসাবাড়িতে কিংবা অফিসের ক্ষেত্রে কাজে আসবে বলে জানানোর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘বেশ তাৎপর্য এবং গুরুত্বের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিতে রোবটের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃদ্ধ মানুষের জন্য সামাজিক রোবটগুলো খুব জরুরী। শিশুদের থেকে শুরু করে প্রবীণদের যারা ঘরে একা সময় কাটায় তাদের জন্য এই রোবটগুলো বেশ কাজে আসবে। গত পাঁচ বছর ধরেই নানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয় এর উপর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের সাফল্য পরিষ্ফুটিত হয়েছে এই রোবটটি তৈরির মধ্যে দিয়ে।’ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নুতন আরও একটি রোবটের পর্দা উন্মোচন করতে যাচ্ছে যে কিনা কথায় আর কাজে বেশ চটপটে। বক্তৃতা দেয়া থেকে শুরু করে কথা বলার ভাবভঙ্গিমা সবই আর দশটা মানুষের মতোই। তবে নাদিমের চেয়ে এর ক্ষেত্রে রয়েছে একটু পার্থক্য। এর বুকে একটি ওয়েব ক্যামেরা লাগানো থাকবে যার ফলে সে যার সঙ্গেই কথা বলুক না কেন তাৎক্ষনিক তার ছবি ধারণ করা সম্ভব। এই রোবটি অন্যের মুখভিনয়ও নকল করারও ক্ষমতা রাখবে। ধারণা করা হচ্ছে, এ রোবটটি পর্যটকদের বিভিন্ন জায়গা ঘুড়ে দেখানোর জন্য কাজে আসবে। নানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয় গত তিন বছর ধরে রোবটটি তৈরি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে অবশেষে সফল হয়েছে। শিক্ষা এবং ব্যবসাক্ষেত্রেও রোবটি কাজে আসবে বলে আসা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে নানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধক্ষ্যের মতে ‘সেদিন আর বেশি দূরে নয় যখন মানুষ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে নিজে না গিয়ে এধরণের রোবটকেই পাঠাবে। এতে করে একজনের পক্ষে অনেকগুলো কাজ করা সম্ভব হবে। আর এতে করে আমাদের সময় খরচ উভয়ই বেঁচে যাবে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *