6

খালেদা জিয়ার বক্তব্য অসত্য ও মনগড়া : সেতুমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একটি জাতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অসত্য, মনগড়া, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা বলেছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার তিনি এক বিবৃতিতে এমন দাবি করেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মিথ্যাচার পুরো জাতিকে বিস্মিত ও হতবাক করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনে করে খালেদা জিয়ার এই নির্জলা মিথ্যাচার বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই অংশ। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলাপ-আলোচনার কর্মসূচি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে একাধিকবার টেলিফোন করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদারতা ও শিষ্ঠতার বিপরীতে যে অশালীন, আক্রমণাত্মক ভাষা ও আচরণ করেছিলেন, তা টেলিফোন সংলাপের বিস্তৃত বিবরণীতে সচেতন মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়া তার দোসর যুদ্ধাপরাধী ও সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের খুশি রাখার জন্য শেখ হাসিনার সংলাপের আন্তরিক আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে সাধারণ নির্বাচন প্রতিহত করার নামে সারাদেশে পেট্রলবোমা ও নারকীয় আগুন সন্ত্রাস ও প্রতিহিংসার এক বীভৎস ও বিকৃত রাজনীতি শুরু করে। সেতুমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র বিয়োগের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে সমবেদনা জ্ঞাপনের জন্য বিএনপি নেত্রীর গুলশান কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেদিনও তিনি মানবিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলকভাবে কার্যালয়ের মূল দরজা বন্ধ করে দিয়ে প্রকারান্তরে আলাপ-আলোচনা ও সংলাপের দরজাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখনো বিএনপির হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন ও গুমের রাজনীতির কথা ভুলে যায়নি। তাদের দুঃশাসনের শিকার হয়ে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতা-কর্মী নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। বিএনপি-জামাতচক্র ২০১৫ সালে তথাকথিত হরতাল-অবরোধের নামে সারাদেশে সহিংস ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেড়শতাধিক মানুষকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ওবায়দুল কাদের আশা প্রকাশ করেন দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। এছাড়া নিত্যকার মনগড়া মিথ্যাচার ও অর্বাচীন বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকবেন এবং গণতন্ত্র ও রাজনীতির ইতিবাচক সুস্থ ধারায় ফিরে আসবেন খালেদা জিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *