mesi

পেনাল্টি থেকে লিওনেল মেসির গোলে ভালেন্সিয়াকে হারিয়েছে লুইস এনরিকের দল

মেসি আর লুইস সুয়ারেসের লক্ষ্যভেদের পরও সমতায় ৯০ মিনিট শেষ হয়েছিল। যোগ করা সময়ে পাওয়া পেনাল্টির সুবাদে ৩-২ গোলে জেতে লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। শনিবার ভালেন্সিয়ার মাঠে ত্রয়োদশ মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় বার্সেলোনা। এনসো পেরেসের ট্যাকলে স্ট্রেচারে শুয়ে মাঠ ছাড়তে হয় অধিনায়ক আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে। এনরিকে তখন ভীষণ ক্ষুব্ধ। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে আগের ম্যাচেই যে চোটে পড়েন মূল একাদশের আরও দুই খেলোয়াড় জেরার্দ পিকে আর জরদি আলবা। তবে কোচের মুখে হাসি ফুটতেও সময় লাগেনি। ২২তম মিনিটে মেসির গোলটি নিয়ে অবশ্য ভীষণ আপত্তি ভালেন্সিয়ার খেলোয়াড়দের। ১৬ গজ দূর থেকে শট নিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। অফসাইডে থাকা সুয়ারেস শেষ মুহূর্তে লাফ দিয়ে পায়ের নীচ দিয়ে বলটা যেতে দেন। ভালেন্সিয়ার দাবিটা টিভি রিপ্লেতে যৌক্তিকই মনে হয়েছে। সুয়ারেসের জন্য গোলরক্ষকের বলের পথ বুঝতে সমস্যা হয়েছে, তাই বলে স্পর্শ না করলেও অফসাইডের বাঁশি বাজানো উচিত ছিল। রেফারি এ দাবি আমলে নেননি, প্রতিবাদ করে উল্টো হলুদ কার্ড দেখতে হয় গোলরক্ষক দিয়েগো আলভেসের। ৩১তম মিনিটে আলভেসের নৈপুণ্যে ব্যবধান বাড়েনি। মেসির কাছ থেকে নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন ভালেন্সিয়া গোলরক্ষক। তিন মিনিট পর রেফারি একটি পেনাল্টির দাবি কানে না তোলায় আরও চটে যায় স্বাগতিক দর্শকরা। ডি-বক্সে রদ্রিগোকে করা সামুয়েল উমতিমির ট্যাকলকে বৈধই মনে হয়েছে রেফারির। ৩৬তম মিনিটে মেসির বাড়ানো বলে সুয়ারেসের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে আবার ত্রাতা আলভেস। দুই মিনিট পর নেইমারের পাস থেকে আবারও সুয়ারেসের শট ঠেকান ব্রাজিলিয়ান  এই গোলরক্ষক। বিরতির ঠিক আগে প্রথমার্ধের সবচেয়ে বড় সুযোগটা এসেছিল ভালেন্সিয়ার। এগিয়ে গিয়ে দানি পারেহোকে ঠিকমেতো শট নিতে দেননি গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে নেইমারের দূরপাল্লার শট বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে ঠেকান আলভেস। ফিরতি বলে ইনিয়েস্তার বদলি হিসেবে নামা রাকিতিচের শটে বল খালি জালে না গিয়ে লাগে কাছের পোস্টে। ভালেন্সিয়াকে মুনির এল হাদ্দাদি সমতায় ফেরান দুই মিনিট পরই। দানি পারহোর ক্রসে ডি-বক্সের সীমানা থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান স্পেনের তরুণ এই ফরোয়ার্ড। নড়ার সুযোগই পাননি টের স্টেগেন। ভালেন্সিয়ার হয়ে করা প্রথম গোলটি অবশ্য উদযাপন করেননি বার্সেলোনা থেকেই ধারে খেলতে আসা মুনির। স্বাগতিকদের এগিয়ে যেতে লাগে আর চার মিনিট। নানির উঁচু করে বাড়ানো বলে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা রদ্রিগোর হাফভলি ঠেকাতে পারেননি টের স্টেগেন। লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের সমতায় ফিরতেও বেশি সময় লাগেনি। ৬২তম মিনিটে রাকিতিচের হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়েছিলেন আলভেস। কিন্তু ফিরতি বলে সুযোগ-সন্ধানী সুয়ারেসের কোনাকুনি শট এক খেলোয়াড়েরর পায়ে লেগে জালে জড়ায়। ৮২তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন নানি। ডি-বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ডের শট লক্ষ্যে থাকেনি। দুই মিনিট পর অরক্ষিত সুয়ারেসের হেডও ক্রসবার উঁচিয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত পেনাল্টির কল্যাণে পাওয়া ৩ পয়েন্টে আপাতত শীর্ষে বার্সেলোনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *